ভোলার দৌলতখান মামলার বাদীকে হাজতখানায় আটক রেখে নির্যাতন, বসতঘর লুটপাট করে আসামীদের দখলে দিল পুলিশ

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার দৌলতখানে একটি মামলার ফরিয়াদীকে থানার হাজতখানায় নাটকীয় নিপীড়ন চালিয়েছে পুলিশ। লুটপাট শেষে বাদীর বসত ঘরটি দখল করে আসামীদের সেখানে তুলে দেয় পুলিশ। মামলার বিবরন ও বাদী পক্ষের অভিযোগ হতে জানা যায়, স্থানীয় পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুল হামিদ তার ওয়ারিশ হাজেরা খাতুনের কাছ থেকে প্রথমে ০৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে অপর ওয়ারিশ হাফসা খাতুন ও অহিদা খাতুন এর কাছ থেকে আরো ০৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন । ১৯৮৮ সালের ১২ই ডিসেম্বর উক্ত জমি ক্রয়ের পর হামিদ গং তা ভোগ দখল করে আসছিল। সেখানকার চর লামছিধলী মৌজার ৮০৩ নং খতিয়ান ভুক্ত ৬৩ নং দাগে বাদীর বসত ঘর বিদ্যমান। বাদী আব্দুল হামিদের পুত্র ইকবাল হোসেন দীর্ঘ বছর ধরে ওই বসত ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। ইতিমধ্যে জমির বিক্রেতা অহিদা খাতুনকে পুজি করে স্থানীয় বাসিন্দা মনা মিয়ার পুত্র মোর্সেদ, জাহাঙ্গীর আলম ও আইয়ুব আলী নিজেদেরকে উক্ত জমির ওয়ারিশ সুত্রে মালিক দাবি করে বাদী পক্ষের সাথে ঝামেলায় জড়ান। ফলে আব্দুল হামিদ মিয়া ভোলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মোর্সেদ গংদের বিরুদ্ধে ১০৭ ও ১১৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামীরা হামিদ গংদের উপর আরো চড়াও হয়ে যায়। এ ঘটনার পর হামিদ মিয়া বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ আলী আজম মুকুলকে অবহিত করেন। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ মোর্সেদ গংরা গত ০৩ ফেব্রæয়ারী সকালে ওই জমি ও বসত ঘর নিজেদের দাবী করে সঙ্গীয় মাস্তান বাহিনী নিয়ে তা দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন । এ ঘটনার পর জমির মালিক আব্দুল হামিদ মিয়া সকল ঘটনার বর্ননা দিয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভোলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিগত ০৪ ফেব্রæয়ারী একই ব্যাক্তিদেরকে আসামী করে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তাকে বাদীর ভুমির মালিকানা সংক্রান্ত সত্যতার প্রতিবেদন এবং ওসিকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ওসি থানার এস.আই মেহেদীকে নোটিশ দিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠান। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ সেখানে গিয়ে বসত বাড়ীতে থাকা বাদীর পুত্র ইকবাল হোসেন ও তার পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেখানে উপস্থিত থেকে পুলিশের সামনেই বাদী পক্ষকে নানা ধরনের হুমকী দিতে থাকেন। বিবদমান ওই ঘরে তালা মেরে পুলিশ চাবি নিয়ে যান। ঘরের কর্তা ইকবাল হোসেনকে পুলিশের এস.আই মেহেদী থানায় গিয়ে দেখা করতে বলেন। ইকবাল বিগত ৭ ফেব্রুয়ারী থানায় গেলে ওসি তাকে থানা হাজতে রেখে নির্যাতন চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইকবালকে থানায় আটক রেখে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে ওই ঘরটির তালা খুলে গণ লুট চালানোর অভিযোগও আনেন মামলার বাদীপক্ষরা। লুটতরাজ চালিয়ে আসামীদেরকে তালা চাবি বুঝিয়ে দিয়ে পুলিশ ঘরে তুলে দেয়ারও অভিযোগ আনা হয়। ইকবাল জানান, যতক্ষন আমার ঘরে লুটতরাজ আর দখলবাজী চলছিলো ততক্ষন আমাকে থানা হাজতে আটক রেখে নিপীড়ন চালিয়েছে পুলিশ। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাদীর পরিবার ৪৭ বছর যাবৎ আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জামাত শিবিরের ক্যাডার বানিয়ে ইকবাল এর পরিবারকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোরও হুমকী দিয়েছে ওসি। এলাকাবাসী জানান, আদালত কর্তৃক শান্তি-শৃঙ্খলার নির্দেশ পেয়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের তান্ডবলীলা সবাইকে হতবাক করে তুলেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ প্রহড়ায় ওই বসত ঘরটি দখলে রেখে সন্ত্রাসীরা আনন্দ-উল্লাস করছে। এ ব্যাপারে দৌলতখান থানার ওসি এনায়েত হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি আসামীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তারাতো পূর্ব থেকেই ঘরটিতে বসবাস করছিলো । তবুও তদন্ত ও কাগজে পাওনা হলে হামিদ গংদের জমি ও ঘর বুঝিয়ে দেব। থানা হাজতে ইকবালকে আটক রেখে নির্যাতনের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান ওসি এনায়েত হোসেন। এদিকে লুটপাট ও ঘর দখলের পর থেকে প্রতিপক্ষের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা আব্দুল হামিদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা তুলে নেয়ার হুমকী দিচ্ছেন প্রতিদিন। দাবী করছেন ৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের হুমকী ও পুলিশের নিপীড়নের শিকার ওই পরিবারটি এখন চরম আতঙ্ক-উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন জানিয়েছেন তারা। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী-আজম মুকুলের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *