রাঙ্গুনিয়ায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:

শনিবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের মাস্টারটিলা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। শ্বাশুড়ির দাবি গলায় ওড়না পেঁছিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে গৃহবধূর স্বজনরা বলছেন যৌতুকের দাবীতে তাকে পরিকল্পীত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম সাজেদা মনি (২০)। সে একই এলাকার প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী। পুলিশ গিয়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ‘শনিবার দুপুরে খবর পায় এলাকার প্রবাসী গিয়াসের স্ত্রী তার নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে গৃহবধূ সাজেদা মনির লাশ বিছানায় শুয়া অবস্থায় দেখতে পায়। শ্বাশুড়ি জানায় দুপুর ১টার দিকে সে নিজের কক্ষে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারা দেখতে পেয়ে বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য লাশ নামিয়ে রেখেছে। বিষয়টি আমি থানায় খবর দিলে তারা এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। গত সাত মাস আগে রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার ইসলামী নতুন পাড়া গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ের সাথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের বিয়ে হয়। সে মৃত অবস্থায় ছয় মাসের অস্তস্বত্ত¡া ছিলেন বলে জানায় তার স্বজনরা।’ নিহত গৃহবধূর মা রুবি আকতার জানায়, বিয়ের সময় তাদের দাবী মত ফার্নিচার সহ বিভিন্ন সামগ্রী যৌতুক হিসেবে প্রদান করি। কিন্তু এরপরেও তারা বিভিন্ন মৌসুমি সামগ্রীর জন্য মেয়েকে নানা সময় চাপ প্রয়োগ করত, গালাগাল দিত এবং বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালাতো। এমনকি বিদেশ থেকে তার স্বামী ফোন করে নানা অশ্লিল ভাষায় আমাদের সাথে পর্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতো। আমার মেয়ে খুবই শান্তি প্রকৃতির মেয়ে, সে আত্মহত্যা করতে পারে না। সে যদি আত্মহত্যা করতো তার গলায় দাগ থাকতো, ফ্যানে শাড়ি ঝুলানো থাকতো। সে আত্মহত্যা করেনি, তাকে পরিকল্পীতভাবে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভূঞা বলেন, ‘গৃহবধূর মৃত্যুর খবরে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন সুরতাহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করি। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হবে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *