হৃদয় ভাঙে, ভাঙে না সমাজের দেয়াল

8

মা আদর করে খাবার মুখে তুলে না দিলে খেতে পারত না চৈতী। পরম আদরে মাথায় হাত বুলিয়ে মায়ের ঘুম পাড়ানি গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ত সে। সময়ের ঘড়ি মায়ের কোল থেকে পৃথিবীর বুকে নামিয়ে দেয় চৈতীকে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে কখন যেন সৌরজগতের মতো অফুরন্ত মায়ের ভালোবাসা আর সন্তানের নাড়ির টানের মাঝখানে গড়ে উঠে কাচের দেয়াল। এখন গভীর রাতে চার দেয়ালের অন্ধকারে চোখ বুজে দূর থেকে মায়ের বুকের উষ্ণতা অনুভব করে চৈতী; হৃদয় ভেঙে যায়, ভাঙে না সমাজের দেয়াল।

না চৈতীর কোনো ছোঁয়াচে মরণঘাতি রোগ হয়নি। ‘বৈচিত্রময়’ লিঙ্গের অধিকারী সে। সমাজে যাদের পরিচয় হিজড়া বলে। তারা কাউকে ছুঁলে অন্যদেরও অমন হবার আশঙ্কা নেই।

সমাজের একমুখী স্রোতে মিশে যেতে পারে না দেশের প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি হিজড়া ভুক্তভোগী। মানবীয় সত্ত্বা নিয়েও পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা কেবল তারাই বোঝে। অদৃশ্য সুতোয় বাধা মায়ের ভালোবাসা আর সন্তানের নাড়ির টানের মাঝখানে গড়ে উঠা কাচের দেয়াল শুধুই অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে তৈরি।

‘তোরা অভিশপ্ত, তোদের বংশ খারাপ, তাই তোরা হিজড়া হয়েছিস’- সমাজের একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মুখে এমন তিরস্কার ক্রমাগত অন্ধকারে ঠেলে দেয় চৈতীদেরকে।

মধ্য বাড্ডার ব্যাপারী পাড়ায় কাজল হিজড়ার আশ্রয়ে থাকেন চৈতী। ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ওই বয়সে দেখা যায় আমি ছেলে। কিন্তু মেয়েদের জিনিসের জন্য কান্নাকাটি করতাম। মেয়েদের জিনিস দিয়ে নিজেকে সাজাতাম। দেহ পুরুষ, অন্তর মেয়েদের। কেউই তা বোঝেনি। আমি নিজেকে বদলাতে পারিনা। সমাজের কেউ বোঝে না আমাকে। অনেকে মনে করে আমার ছেলে লিঙ্গ নাই, মেয়ে লিঙ্গও নাই।’

বয়:সন্ধিকালের স্মৃতিচারণ করে চৈতী বলেন, ‘১২/১৩ বছর বয়সে জৈবিক চাহিদা তৈরি হয়। ভেতরে মেয়েদের ডিমান্ড তৈরি হয়। কারণ, ভেতরে তো মেয়েদের সত্তা। তাই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।’

প্রাথমিকে ভালো ছাত্রী ছিলেন জানিয়ে চৈতী বলেন, ‘ক্লাস ফোরে ওঠার পর থেকে রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে। এইচএসসিতে ভীষণ মানসিক বিপর্যয়ে পড়ি। সবাই বলত তুমিতো ছেলে, তুমি কেন মেয়েদের মতো করে চলবা, কাপড় পড়বা। তখন আমার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। আমি আমার সমমনাদের খুঁজতে থাকি। আমার এলাকার হিজড়াদের দলে যাই। তারা আমাকে কাউন্সিলিং করে, মোটিভেশন করে-তারা বোঝায় আমরা এমনই। তখন নামাজ পড়ে কাঁদতাম আল্লাহ আমাকে মেয়ে বানিয়ে দাও। তখন আমি বাবা মাকে বলে দেই আমি আলাদা একটা মানুষ, আমাকে তোমরা বিশ্বাস কর।’

‘‘হাতে নেইলপালিশ মেখে স্কুলে গিয়েছি, ম্যাডাম বেত দিয়ে পেটাতেন। বলতেন ‘তুমি না ছেলে মানুষ, তুমি এরকম করছ কেন।’ তখন রাগ করে তিন মাসের জন্য অন্যত্র চলে যাই। পরে আমার মা আমাকে নিয়ে আসে। আমি সুযোগ পেলে ডাক্তার হতে পারতাম।’’

অবশেষে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে জীবনের তাগিদে রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় সমমনাদের কাছে চলে আসেন চৈতী। এখানে তার আরেক মানসিক যন্ত্রণা। এখানে আরেকটা পরিবেশ। এখানে তাদের সমমনা আছে, গুরু আছে, ভালো লাগে। কিন্তু পেটের তাগিদে রাস্তায় নামতে হয়।

‘রাস্তায় আরেক যন্ত্রণা। মানুষ ঘৃণার চোখে তাকায়। তুই তুই করে কথা বলে। ঠাট্টা তামাশা করে। বাসে আমার পাশের সিটে কেউ বসে না।’-অশ্রুসজল নয়নে বলছিলেন চৈতী। পারিবারিক বন্ধন আর মায়ের ভালোবাসার কথা মনে পড়লে হৃদয় ভেঙ্গে যায় চৈতীর।

‘চুপি চুপি বাড়ি যেতে হয়। চুপি চুপি বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে এইচএসসি পাস করি। বাড়িতে গেলে আরেক সমস্যা। সবাই আমাকে দেখতে আসে। প্রশ্ন করে তুমি এমন করতেছো কেন। তুমিতো ছেলে। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতাম না। এখন আর এসব কথা বলতে ভালো লাগে না। কি হবে বলে? অবস্থার তো পরিবর্তন হয় না। সবখানে বঞ্চনা আর অবহেলা। রাতের আঁধারে একা একা কাঁদি। গুরুদের কাছে বলি। তারা ধমক দিয়ে শাসিয়ে দেয়। ফ্যামিলিতেও থাকতে পারি না। গ্রুপে এসে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়। মাঝে মাঝে কোনো এনজিওতে কাজ করার সুযোগ পেলে কাজ করি। ম্যানেজমেন্টে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এদিকে গুরুদের সময় দিতে গিয়ে পড়াশোনা হয়না।’

পারিবারিক অনুষ্ঠান, চাকরি কিংবা বাসা ভাড়া; সবকিছু্ইতে প্রতিবন্ধকতা। জন্মই যেন আজন্ম পাপ। অনন্যা, শাম্মী, ববি, মাহি, চৈতীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাজের কুসংস্কার তাদের অগ্রগতির পেছনে মূল বাধা। সমাজ তাদের আলাদা করে রেখেছে।

ববি বলেন, ‘মা আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে খাওয়াতেন। বাবা দেখলে রাগ করতেন। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন, যাতে মানুষের সামনে যেতে না পারি। তারপরও বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাত বেঁধে পানিতে ফেলে দিতেন। আমি হিজড়া বলে আমাদের পরিবারকে গ্রামে একঘরে করে রাখা হয়। তাই পরিবারকে মুক্তি দিয়ে ঢাকায় চলে আসি।’

তারা বাসা ভাড়া পান না। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যেতে পারেন না। কারণ, তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাজের অন্য মানুষের কাছে হেয় হতে হয়। ওরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে ওদের ভাই-বোনদের বিয়ে দিতে পারেন না বাবা-মা। বাড়ির মালিকরা হিজড়াদের অনেকটা ঘৃণার চোখে দেখেন।

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাড়ির মালিক হাফিজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয় হিজড়াদের বাসা ভাড়া দেবেন? প্রশ্ন শুনে তিনি চমকে উঠেন। বলেন, ওদের বাসা ভাড়া দিয়ে মরব নাকি। গ্যাঞ্জাম করে, চাঁদা তুলে, মানুষকে বিরক্ত করে। রাতের বেলা হইহুল্লা করে। তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, কোনোদিন তাদের বাসা ভাড়া না দিয়ে এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলাতো দেখা যায়, শোনা যায়।’

জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গেলেও বিপত্তি। সহকর্মীরা দুষ্টামি করে, তাদের ঘিরে ধরে কটাক্ষ করে। ঠিকমতো তারা বেতন পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যনা হিজড়া বলেন, ‘‘শীতের সকালে মাছের বাজারে গেছি। দোকানদার ঠাণ্ডা পানি মাথায় ঢেলে দিয়েছে। তখন দোকানদারকে হাত ধরে বলি, ‘পানি দিছোস দাদা আমায় একটা মাছ দে।’’

জয়, মাহি, মোহনাদের মতে, অনেক দোকানদার শরীর টিপে দেখে নরম কিনা। অসম্পূর্ণ শরীরটাও কিনে নেওয়ার চেষ্টা করে অনেকে।

কুষ্টিয়ায় এক প্রবীণ হিজড়ার মৃত্যু পরবর্তী সৎকার নিয়ে অশ্রুসজল নয়নে চৈতী বলছিলেন, ‘‘সারাদিন ডেডবডি উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়। স্থানীয় মোল্লারা দাফন করতে দিচ্ছিল না। তারা বলে, ‘এরা (হিজড়া) সারাদিন নাচগান করত, অনৈতিক কাজকর্ম করত। তাই মৃত ব্যক্তিকে শরিয়াহ মোতাবেক দাফন করা যাবে না।’ পরে অন্য এলাকার এক মৌলভী গিয়ে তাকে দাফন করেন।’’

কেউ কেউ বলেন, হিজড়ারা জীনের সন্তান। কেউবা বলেন মেয়েদের বিশেষ সময় যৌন সঙ্গম করার কারণে এমন হয়। আবার কারো ধারণা তারা অভিশপ্ত। তবে এগুলোকে পুরোপুরি কুসংস্কার বলে জানালেন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আলাদা কোনো আয়াত নেই। তবে হাদিস অনুযায়ী যাদের মধ্যে নারীর প্রবণতা বেশি তারা নারীদের সঙ্গে চলাফেরা করবে আর যাদের মধ্যে পুরুষের প্রবণতা বেশি তারা পুরুষের সঙ্গে চলাফেরা করবে। তবে তাদেরকে বিন্দুমাত্র অবহেলা করার সুযোগ নেই।

সামাজিক কারণে পিতা-মাতা হিজড়া সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করে এটা ঠিক কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি নাজায়েজ। তাদের অন্য সন্তানের মতো মানুষ করতে হবে। তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তাদের সবকিছুই আমাদের সাধারণ মানুষের মতো হতে হবে। আমাদের সবার মতো তারাও সম্পত্তির অধিকার পাবেন।

অনেক ইমাম তাদের দাফনে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, এটা ভুল। আসলে তারা হয়ত বিষয়টা জানেন না। তাই মনগড়া সিদ্ধান্ত নেন। হিজড়াদের কেউ কোনো একটা লিঙ্গে রূপান্তরিত হতে চাইলে সে সেক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই বলে জানান মাওলানা মাসউদ।

তবে সনাতন ধর্মে হিজড়াদের প্রতি ঘৃণামিশ্রিত দৃষ্টান্ত পেয়েছেন বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অনারারি অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী।

তিনি বলেন, ‘মহাভারতে শিখন্ডি ছিলেন হিজড়া। বিষ্ণু তাকে দুর্বল ভেবে তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে অনীহা প্রকাশ করেন। যাইহোক, সন্তানকে নিয়ে নাচগান করলে সন্তানের মঙ্গল হয় বলেও হিন্দু সংস্কৃতিতে রয়েছে। বাচ্চা নাচিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা পীড়াদায়ক একটা প্রথা। আমাদের মতোই তাদেরও অধিকার থাকা উচিত। এমনকি আমি তাদের হিজড়া বলতেও নারাজ। তারাও মানুষ আমরাও মানুষ।’

খ্রিস্টান ধর্মে হিজড়াদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ নেই বলে জানান তেজগাঁও ক্যাথলিক চার্চের ফাদার খোকন রোজারিও। তিনি বলেন, খিস্টান ধর্মে হিজড়াদের ব্যাপারে আমি তেমন কিছু পাইনি। তবে তাদের সাধারণ মানুষের মতো অধিকার দেওয়া উচিত।

মোঘল সম্রাটদের রাজ দরবারে হিজড়াদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। হেরেমে এবং বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য হিজড়াদের রাখা হতো। বিশ্বস্ত ভৃত্য ছিল হিজড়ারা। তারা মেধা মননে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। তারা কর্মক্ষম এবং সুযোগ পেলে তারা বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবেন বলে জানালেন রাজধানীর প্রবীণ হাসপাতালের চিকিৎসক এএনএম ওয়াহিদুজ্জামান।

হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটাকে ক্রোমোজোমাল ডিসঅর্ডার বলা যায়। এর মধ্যে একটা প্যাথলজিক্যাল অন্যটা ফিজিওলজিক্যাল। ক্রোমোজমাল ডিসঅর্ডারের কারণে ডাউনসিন্ড্রোম বেবিরও জন্ম হয়। সাধারণত: পুরুষের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরণ হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে আর নারীদের ইস্ট্রোজেন। কিন্তু হিজড়াদের ক্ষেত্রে এগুলো সঠিক মাত্রায় থাকে না। অর্থাৎ ইমব্যালান্সড থাকে। ফলে তাদের যৌনাঙ্গ অপরিপূর্ণ থাকে।’

জন্মের পর শিশুর দেহে এমন কোনো উপসর্গ থাকে যা দেখে হিজড়া সন্তানের আভাস পাওয়া যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জন্মের পর বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে শিশুদের ইন্টারনাল অরগ্যান (লৈঙ্গিক অঙ্গ) স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে কিনা। যদি কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তবে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুকে যেকোনো একদিকে ডাইভার্ট করা যায়। অর্থাৎ মেয়ে অথবা ছেলে হিসেবে তাকে তৈরি করে নেওয়া যায়।

হিজড়ারা সাধারণত: দুই ভাগে বিভক্ত-শারিরীকভাবে পুরুষ কিন্তু মানসিকভাবে মেয়ে তারা অকোয়া নামে পরিচিত। শারিরীকভাবে নারী কিন্তু মানসিকভাবে পুরুষ জেনানা নামে পরিচিত। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিজড়াদের মেয়েলি আচরণ তাদের কাছে অপছন্দনীয়। এ কারণে তারা হিজড়াদের ভালো চোখে দেখেন না।

এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? জবাবে ডা. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, হরমোনাল ও সাইকোথেরাপির মাধ্যমে আচরণ পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু এজন্য লাগবে আইনগত ও আর্থিক সহায়তা। এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত মানুষদের কাছে হিজড়া ব্যাপারে কুসংস্কারের শেষ নেই। কিন্তু শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে চিকিৎসকরাও যদি হিজড়াদের চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন তাহলে এরমতো সামাজিক অধঃপতন হয়ত আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

হাইপোথায়রয়েডের সমস্যার কারণে পপুলার ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলেন অনন্যা। আগে থেকেই এপয়েনমেন্ট নেওয়া ছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি) সহকারী অনন্যাকে দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আপনি এখানে এসেছেন কেন? এটাতো আপনাদের জন্য না।’

ডাক্তার ওয়াহিদুজ্জামানও কোনো কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হিজড়াদের ব্যাপারে এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আসলে এটা মেনে নেওয়া যায় না। তবে একটা সময়ে হয়ত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

কুসংস্কারমুক্ত হয়ে সমাজে হিজড়াদের অংশগ্রহণ বাড়ানো যায় কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফলে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হবে।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *