Latest

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন

anwar 15 shongbad shommelon

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য,পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির একবছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার, সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন পঠিত বক্তব্য হলো। সংবাদ সম্মেলনে  স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, কমিটির সদস্য কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দা মিসেস কাশপিয়া নাহরিন, মিসেস ফারহানা জাবেদ সহ কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ বাচ্চু, ইসমাইল বালী, মিসেস আঞ্জুমান আরা বেগম, লুৎফুর নেছা দোভাষ বেবী সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পঠিত বক্তব্য নি¤œরূপ: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মাননীয় মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দিন কর্তৃক গঠিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত আজকের এ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক ভাইয়েরা, উপস্থিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনারা আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এ সম্মেলন সৌন্দর্যম-িত করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।
আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির একবছর পূর্ণ হয়েছে। বিগত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের ২য় সাধারণ সভায় মাননীয় মেয়র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করেছেন। বিগত একবছর মূলত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো আপনাদের মাধ্যমে নগরবাসীকে অবহিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন। আশা করি, চট্টগ্রাম নগরীকে একটি আধুনিক-শিক্ষাবান্ধব নগরী হিসাবে পরিণত করতে মাননীয় মেয়র শিক্ষার প্রসার, উন্নয়ন ও সংস্কারের যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন আপনাদের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শে তা অধিকতর কার্যকর হবে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা!
আপনারা নিশ্চয় জানেন, মরহুম নূর আহমদ এ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯২১ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তেত্রিশ বছর তিনি চট্টগ্রামের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি মানুষের মননের উন্নয়নে শিক্ষা নামক বৃক্ষের যে বীজ বপন করেছিলেন তা আজ মহীরুহ রূপধারণ করেছে। তিনি চিটাগাং মিউনিসিপ্যালটির পরিচালনায় ১৯২৭ খ্রি. পৌরসভা এলাকায় অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্ত্তন করেন। এটি শুধু চট্টগ্রাম নয়; পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ১৯২৮ খ্রি. অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাকে মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক করে বিশে^ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নূর আহমদ চেয়ারম্যানের মৃত্যুর প্রায় ২৮ বছর পর ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভা পৌর কর্পোরেশনে রুপান্তর হয় এবং ১৯৮৯ সালে সিটি কর্পোরেশনে পরিনত হয়। দীর্ঘ এ সময়ে (১৯৫৪-২০১৫ সাল) পর্যন্ত ৫জন চেয়ারম্যান, ১২জন প্রশাসক ও ৪জন মেয়র নগরবাসীর অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। দেখা যায়, তাঁরা প্রত্যেকেই শিক্ষার প্রজ¦লিত আলো আরো ব্যাপকভাবে ছড়িযে দেয়ার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলেন। মাননীয় মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ২৬ জুলাই ২০১৫ দায়িত্বভার গ্রহণের সাথে সাথে পূর্বসূরীর অনন্য, অসাধারণ অবদানকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করে আগামীর চট্টগ্রামের জন্য শিক্ষাকে যুগোপোযুগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বতন্ত্র, অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন। তিনি ১ সেপ্টেম্বর চসিকের ২য় সাধারণ সভায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করেন। যে কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের সম্মানিত কাউন্সিলর জনাব নাজমুল হক ডিউককে। এছাড়া সদস্য হিসাবে আছেন সম্মানিত কাউন্সিলর ১৫ নং ওয়ার্ডের জনাব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ১৮নং ওয়ার্ডের হাজী মো. হারুন উর রশীদ, ৩০নং ওয়ার্ডের জনাব মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৩নং ওয়ার্ডের জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩৬নং ওয়ার্ডের জনাব হাবিবুল হক, সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের মিসেস সৈয়দা কাশপিয়া নাহরিন, ৯নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ফারহানা জাবেদ, কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ। তিনি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব মিসেস নাজিয়া শিরিন।
সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা!
আপনারা নিশ্চয় জানেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২১টি কলেজ, ১টি বিশ^বিদ্যালয়, একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, ৬টি কম্পিউটার ক্যাম্পাস, একটি সংগীত একাডেমি, ৬টি কিন্ডার গার্টেন, ১টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৫০টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ৬টি মসজিদ, ৪টি টোল স্কুল, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১টি, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ৪টি, থিয়েটার ইনস্টিটিউট ১টি ও সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি ১টি পরিচালনা করে আসছে। বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষানুরাগী মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই নগরীর প্রান্তিক জনপদ ১নংপাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণি চালু করে বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করেন। এরপর চলতি বছরে পাথরঘাটা মহিলা কলেজ ও নগরীর ঐতিহ্যবাহী মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মাত্র একবছরের মধ্যে বৃহৎ এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করে মেয়র মহোদয় নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া, আরো বেশ কয়েকটি কলেজ ও বিদ্যালয়কে সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনায় আনার জন্য মেয়র মহোদয়ের নির্দেশক্রমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলেজে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৭হাজার ২শত ৪২জন আর শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছে ৪শত ২৩জন জন। মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৭ হাজার ৭শত ৬৩ জন আর শিক্ষক-কর্মচারি ১হাজার ২শত ৩৮জন। কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষার্থী আছে ২হাজার ৬শত ৫১জন আর শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছে১শত ৮জন। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী আছে ৪৭৭জন আর শিক্ষক-কর্মচারি আছে ১৩জন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছে মোট ৬৭জন শিক্ষক-কর্মচারি।
সাংবাদিক বন্ধুরা!
দায়িত্ব নেয়ার পর স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রাথমিক পর্যায়ে যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তা হলো-শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা, একটি ‘শিক্ষা নীতিমালা’ প্রনয়ণ করা, আর্থিক সুবিধা ও পদোন্নতি প্রদান, সিলেকশান গ্রেড ও টাইম স্কেল বঞ্চিত শিক্ষকদের স্কেল প্রদান, অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিপাঠের মান উন্নীতকরণ, ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধকরণ, সহ-শিক্ষা কারিকুলাম তথা খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বার্ষিকী ও দেয়ালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
উল্লেখিত পরিকল্পনার আলোকে এ স্বল্প সময়ে স্কুল ও কলেজের ৪৪০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সিলেকশান গ্রেড, টাইমস্কেল ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়। তাছাড়া সরকারি পে-স্কেল ঘোষণার সাথে সাথে শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশক্রমে স্থায়ী শিক্ষকদের স্কেল প্রদানের পাশাপাশি অস্থায়ী শিক্ষকদেরও ২৭% থেকে ৩৫% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করে মাননীয় মেয়র এ জনপদে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিপাঠ উন্নীত করণের লক্ষ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যবৃন্দসহ প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করেন, প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক অ্যাসেম্বিলি, সাহিত্য-সাস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা, আউটডোর, ইনডোর খেলাধুলাসহ মাননীয় মেয়রের নির্দেশনাক্রমে গত ২২ আগস্ট হতে শুরু হয়েছে আন্তঃস্কুল-কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সুন্দর হাতের লেখা ও মননশীলতা বিকাশের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজ দেয়ালিকাসহ বার্ষিকী প্রকাশ করেছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো, ‘শিক্ষা নীতিমালা’ প্রনয়ণ। আপনারা জানেন, সিটি কর্পোরেশন প্রায় শতবছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসলেও বিস্তৃত এ শিক্ষা বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় কোন স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রনয়ণ করা হয়নি। মাননীয় মেয়র আলহাজ¦ আ. জ. ম. নাছির উদ্দিন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই ‘শিক্ষা নীতিমালা’ প্রনয়ণের উদ্যোগ নেন। এজন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেন তিনি। নীতিমালা প্রনয়ণ ও এর পর্যালোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে এ নীতিমালা নগরবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া কলেজ ও স্কুলের দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, গ্রেড ও টাইম স্কেল বঞ্চিত শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ সকল আর্থিক সুবিধা প্রদানের কাজ, অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগ্গিরই শিক্ষকদের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বলাবাহুল্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শ্রেণি পাঠের মান উন্নয়নে শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটি যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তার ইতিবাচক ফল আমরা ২০১৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত রেজাল্ট-এ পেয়েছি।
ফলাফল বিবরণী-এইচ.এস.সি
২০১৫ সালে ৫৩৫৩ জন পরীক্ষার্থী এইচ.এস.সি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে ৩৯১২ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয় অর্থাৎ শতকরা ৭৩.০৮ ভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করে। যেখানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার ছিল শতকরা ৬৩.৪৯ ভাগ। ২০১৬ সালে ৬৩৮২ জন পরীক্ষার্থী এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪৭৩৪ জন পরীক্ষার্থী সফলকাম হয় অর্থাৎ শতকরা ৭৪.১৮ ভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।
যেখানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার ছিল শতকরা ৬৪.৬০ ভাগ।
২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কলেজসমূহে (যার অধিকাংশ চট্টগ্রামের অনগ্রসর এলাকায় অবস্থিত) পাশের হার শতকরা ১.১০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।
এস.এস.সি
২০১৫ সালে ৪৩৭৯ জন পরীক্ষার্থী এস.এস.সি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে ৩৯৫০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয় অর্থাৎ শতকরা ৮৯.৮৩ ভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করে।যেখানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার ছিল শতকরা ৮২.৭৭ ভাগ।
২০১৬ সালে ৫৪৩৪ জন পরীক্ষার্থী এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫২৫৫ জন পরীক্ষার্থী সফলকাম হয় অর্থাৎ শতকরা ৯৬.৭১ ভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। যেখানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার ছিল শতকরা ৯০.৪৪ ভাগ।
২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলসমূহে পাশের হার শতকরা ৬.৮৮ ভাগ বৃদ্ধি পায়।
জে.এস.সি পরীক্ষায় ২০১৫ সালে শতকরা ৯৫.৩৩ ভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়।
যেখানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ছিল শতকরা ৮৫.৪৮ ভাগ।
সুপ্রিয় বন্ধুরা! আপনাদের আরো একটি বিষয়ে আমরা অবগত করতে চাই, মাননীয় মেয়রের একান্ত ইচ্ছায় ইতোমধ্যে তিনটি কলেজ ও ৭টি বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি আর্থিক বছরে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সংস্কার ও মেরামতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিগত এক বছরে স্ট্যান্ডিং কমিটি ১২টি সভা করে। উক্ত সভার সিদ্ধান্তের সার-সংক্ষেপ আপনাদের অবগতিতে উপস্থাপন করা হল।
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রি. স্ট্যান্ডিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত:
০১ ফতেয়াবাদ বহুমূখী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষ হতে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম গ্রহণ করায় সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরামর্শ প্রদান করা হয়।

০২ মেয়র মহোদয় শ্রেণি শিক্ষকগণকে পাঠদানের শুরুতে স্বল্প সময়ের জন্য প্রত্যহ নীতি ও নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। ইতিমধ্যে তদবিষয়ে কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও জেষ্ঠ্যতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদানে সর্বদা মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ পরামর্শ প্রদান করেন। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবমুক্ত থেকে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে সচেষ্ট থাকা এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
০৩ মেয়র মহোদয় দিনের বেলার পরিবর্তে রাতের বেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এতে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তদবিষয়ে আরো অধিকতর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটি কর্তৃক গঠিত পরিদর্শন টিম প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ব্যাপারে আরো সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া ক্যাম্পাস ও প্রতিটি কক্ষ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদেরকে যথাযথ দায়িত্ব পালন, শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার, টেবিল, ব্ল্যাক বোর্ড, বৈদ্যুতিক পাখা, বাথরুম এবং টয়লেটকে ব্যবহার উপযোগি করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করণের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা প্রদানের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়া হয়।
০৪ মেয়র মহোদয় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে আলোচনাক্রমে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা, স্থানীয় অবস্থান পর্যালোচনান্তে ভবিষ্যতে শ্রেণি ও শ্রেণি শাখা বৃদ্ধি/কমানোর বিষয়ে কমিটির সম্মানীত সদস্যগণের মতামত উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করেন।
০৫ মেয়র মহোদয় সভায় আসন্ন জে.এস.সি ও এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষা পরিদর্শনের জন্য ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট ০৩ (তিন) টি কমিটি গঠন পূর্বক উক্ত কমিটিত্রয় কর্তৃক পরীক্ষা পরিদর্শন এবং পাশাপাশি যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কিম্বা ইতোমধ্যে ভবন ভেঙ্গে নির্মানের কাজ শুরু/শেষ হয়নি সে সকল ভবনের সমস্যাদি যথাযথ চিহ্নিত করণ করে আগামী ২০/১০/২০১৫ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং ০৩/০৯/২০১৫ খ্রিঃ হতে পরিদর্শন কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে যাবতীয় সমস্যাদির বিষয়ে চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
০৬ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বেতনসহ অন্যান্য ফি এর তথ্য সংগ্রহ করে কর্পোরেশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে তুলনামূলক প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
০৭ মেয়র মহোদয় যে সকল কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষার্থীর অপ্রতুলতা রয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চালু রাখা যাবে কিনা তৎবিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তী সভায় মতামত উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করেন। এতদব্যাতিত বেসরকারি কিন্ডার গার্টেনের পাঠ্য পুস্তক এবং শিক্ষার্থীদের বেতন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করার পরামর্শ প্রদান করেন।
০৮ অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি করণের জন্য এবং প্রভাষক ও সহাকরী শিক্ষক (বিষয় ভিত্তিক) নিয়োগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
০৯ দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাঁদেরকে এক প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলীর পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং বিশেষ করে বদলীর ক্ষেত্রে এমপিও ভূক্তির শূণ্য পদকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
১০ ২০১৬ সনের জানুয়ারী মাসের ১ম সপ্তাহে সিলেবাস প্রদানের লক্ষ্যে কমপক্ষে ০২ মাস পূর্বে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের নিয়ে সিলেবাস কমিটি গঠনের ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
১১। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অধিকতর সুবিধার্থে বাংলা ও ইংরেজী ব্যাকরণ বিষয়ে কিছু সহায়ক বই (৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত) নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তবে উক্ত কার্যক্রম গ্রহণে সরকারি সিদ্ধান্তকে চুড়ান্ত হিসাবে গণ্য করা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বও ২০১৫ খ্রি.
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আসন্ন জে.এস.সি ও এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষা-২০১৫ পরিদর্শন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাদি চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে সরজমিনে তদন্ত পূর্বক মতামত প্রদানের জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
১৩ অক্টোবর ২০১৫ খ্রি.
১২ সভায় কর্পোরেশন পরিচালিত যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও এর পদ শূণ্য রয়েছে জরুরী ভিত্তিতে স্ব স্ব বিদ্যালয়ের এমপিও বিহীন শিক্ষক-কর্মচারীকে অথবা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে বদলীর মাধ্যমে উক্ত এমপিও এর শূণ্য পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এমপিও ভূক্ত করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড এবং শিক্ষক ও কর্মচারীগণের উচ্চতর পদে পদায়নের নিমিত্ত বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) চালুকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৪ যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তা নির্ধারণের জন্য প্রকৌশলী বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে তালিকা প্রনয়ণ পূর্বক ভাঙ্গার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভেঙ্গে ফেলা ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা কিভাবে করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে মতামত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ চলছে সেগুলো দ্রুততর সময়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের নিকট হতে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত এবং অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে প্রেরিত তথ্যাদি মাননীয় মেয়র মহোদয় বরাবর উপস্থাপন উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৫ সভায় কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান অধিকতর বৃদ্ধির লক্ষ্যে বোর্ড নির্ধারিত পাঠবইয়ের পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে সহায়ক বই মাননীয় মেয়র মহোদয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ এবং সচিব মহেদয়,চসিক-এর উপস্থিতিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের মাধ্যমে তাৎক্ষনিকভাবে (৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত) নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই নিয়মে কিন্ডারগার্টেন সমূহের সহায়ক বই নির্ধারণেরও প্রস্তাবনা রয়েছে।
০৩ মেয়র মহোদয় দিনের বেলার পরিবর্তে রাতের বেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এতে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তদবিষয়ে আরো অধিকতর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটি কর্তৃক গঠিত পরিদর্শন টিম প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ব্যাপারে আরো সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া ক্যাম্পাস ও প্রতিটি কক্ষ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদেরকে যথাযথ দায়িত্ব পালন, শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার, টেবিল, ব্ল্যাক বোর্ড, বৈদ্যুতিক পাখা, বাথরুম এবং টয়লেটকে ব্যবহার উপযোগি করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করণের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা প্রদানের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়া হয়।
০৪ মেয়র মহোদয় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে আলোচনাক্রমে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা, স্থানীয় অবস্থান পর্যালোচনান্তে ভবিষ্যতে শ্রেণি ও শ্রেণি শাখা বৃদ্ধি/কমানোর বিষয়ে কমিটির সম্মানীত সদস্যগণের মতামত উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করেন।
০৫ মেয়র মহোদয় সভায় আসন্ন জে.এস.সি ও এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষা পরিদর্শনের জন্য ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট ০৩ (তিন) টি কমিটি গঠন পূর্বক উক্ত কমিটিত্রয় কর্তৃক পরীক্ষা পরিদর্শন এবং পাশাপাশি যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কিম্বা ইতোমধ্যে ভবন ভেঙ্গে নির্মানের কাজ শুরু/শেষ হয়নি সে সকল ভবনের সমস্যাদি যথাযথ চিহ্নিত করণ করে আগামী ২০/১০/২০১৫ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং ০৩/০৯/২০১৫ খ্রিঃ হতে পরিদর্শন কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে যাবতীয় সমস্যাদির বিষয়ে চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
০৬ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বেতনসহ অন্যান্য ফি এর তথ্য সংগ্রহ করে কর্পোরেশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে তুলনামূলক প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
০৭ মেয়র মহোদয় যে সকল কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষার্থীর অপ্রতুলতা রয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চালু রাখা যাবে কিনা তৎবিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তী সভায় মতামত উপস্থাপনের পরামর্শ প্রদান করেন। এতদব্যাতিত বেসরকারি কিন্ডার গার্টেনের পাঠ্য পুস্তক এবং শিক্ষার্থীদের বেতন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করার পরামর্শ প্রদান করেন।
০৮ অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি করণের জন্য এবং প্রভাষক ও সহাকরী শিক্ষক (বিষয় ভিত্তিক) নিয়োগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
০৯ দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাঁদেরকে এক প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলীর পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং বিশেষ করে বদলীর ক্ষেত্রে এমপিও ভূক্তির শূণ্য পদকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
১০ ২০১৬ সনের জানুয়ারী মাসের ১ম সপ্তাহে সিলেবাস প্রদানের লক্ষ্যে কমপক্ষে ০২ মাস পূর্বে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের নিয়ে সিলেবাস কমিটি গঠনের ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
১১। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অধিকতর সুবিধার্থে বাংলা ও ইংরেজী ব্যাকরণ বিষয়ে কিছু সহায়ক বই (৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত) নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তবে উক্ত কার্যক্রম গ্রহণে সরকারি সিদ্ধান্তকে চুড়ান্ত হিসাবে গণ্য করা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বও ২০১৫ খ্রি.
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আসন্ন জে.এস.সি ও এস.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষা-২০১৫ পরিদর্শন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাদি চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে সরজমিনে তদন্ত পূর্বক মতামত প্রদানের জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
১৩ অক্টোবর ২০১৫ খ্রি.
১২ সভায় কর্পোরেশন পরিচালিত যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও এর পদ শূণ্য রয়েছে জরুরী ভিত্তিতে স্ব স্ব বিদ্যালয়ের এমপিও বিহীন শিক্ষক-কর্মচারীকে অথবা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে বদলীর মাধ্যমে উক্ত এমপিও এর শূণ্য পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এমপিও ভূক্ত করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড এবং শিক্ষক ও কর্মচারীগণের উচ্চতর পদে পদায়নের নিমিত্ত বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) চালুকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৪ যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তা নির্ধারণের জন্য প্রকৌশলী বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে তালিকা প্রনয়ণ পূর্বক ভাঙ্গার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভেঙ্গে ফেলা ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা কিভাবে করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তাকে মতামত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ চলছে সেগুলো দ্রুততর সময়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের নিকট হতে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত এবং অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে প্রেরিত তথ্যাদি মাননীয় মেয়র মহোদয় বরাবর উপস্থাপন উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৫ সভায় কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান অধিকতর বৃদ্ধির লক্ষ্যে বোর্ড নির্ধারিত পাঠবইয়ের পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে সহায়ক বই মাননীয় মেয়র মহোদয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ এবং সচিব মহেদয়,চসিক-এর উপস্থিতিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের মাধ্যমে তাৎক্ষনিকভাবে (৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত) নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই নিয়মে কিন্ডারগার্টেন সমূহের সহায়ক বই নির্ধারণেরও প্রস্তাবনা রয়েছে।
৩০ প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিপূর্বে আন্তঃ কলেজ, আন্তঃ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেনের পরীক্ষা কমিটির বিষয়ে সভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নতুন পরীক্ষা কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৩১ মেয়র মহোদয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের ভূর্তকী পর্যায়ক্রমে নিরসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারই ফলশ্রুতিতে অনতিবিলম্বে এমপিও এর শূণ্যপদ নির্ধারণ পূর্বক তদস্থলে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক বদলী করতঃ এমপিও এর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৩২ মেয়র মহোদয় কম্পিউটার ইনস্টিটিউট ও কম্পিউটার কলেজ (ক্যাম্পাস) সমূহ আরো গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিপূর্বে গঠিত উপ-কমিটির পরিদর্শনের প্রতিবেদন পর্যালোচনান্তে সরাইপাড়া কম্পিউটার কলেজটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার কলেজে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
৩৩ ভর্তি ফি, বেতন ও অন্যান্য ফি সরকারি বিধি মোতাবেক বৃদ্ধিকরণের ব্যাপারে এবং এ বিষয়ে অর্থ ও সংস্থাপন স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৯ মে ২০১৬
৩৪ মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূণ্য পদ গুলোর অভাব গভীরভাবে অনুভব করেন। শিক্ষার ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছার আন্তরিক ইচ্ছায় অতি দ্রুত শূণ্য পদগুলো পূরণের নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশের আলোকে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক এর শূণ্য পদে বিভাগীয় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ও পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান করার এবং সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকের শূণ্য পদ গুলো লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে পূরণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৩৫ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যরক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটি শিক্ষকদের ইতিপূর্বে প্রদত্ত টাইম স্কেল ও স্কেল সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গ্রেড ভিত্তিক শিক্ষকদের সাথে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়নের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৩৬ যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এম.পি.ও বিহীন স্থায়ী শিক্ষক/কর্মচারী কর্মরত আছেন, ঐ সকল শিক্ষক/কর্মচারীগণের নামের তালিকা জরুরী ভিত্তিতে প্রস্তুত পূর্বক এম.পি.ও এর শূণ্য পদে বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৩৭ বাগমনিরাম সিরাজা খাতুন সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দ্বিতল ভবন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে শিক্ষা , স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যরক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সম্মানিত সদস্য ও স্থানীয় কাউন্সিলর জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন সভাকে অবহিত করেন এবং তিনি উক্ত বিদ্যালয়টিতে আরো ০৪ (চার) টি ফ্লোর বর্ধিত করণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সভায় উপস্থাপন করেন। সভা উক্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেন। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কক্ষের অপ্রতুলতা এবং জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে তা সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে মেয়র মহোদয় নির্দেশ প্রদান করেন।
১৬ জুন ২০১৬
৩৮ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের আর্থিক আয়-ব্যয় যাছাইয়ের লক্ষ্যে ০৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৩৯ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কায়সার-নিলুফার কলেজে ¯œাতক কোর্স চালু করণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৪০ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কলেজ সমূহে কর্মরত প্রভাষকগণের মধ্যে যাদের চাকুরীকাল ১৫ বছর ও তদূর্ধে তাঁদেরকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
২০ জুলাই ২০১৬
৪১ মেয়র মহোদয় এমপিও ভূক্তির স্বার্থে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও এর শূণ্য পদে শিক্ষক কর্মচারী বদলী পূর্বক সমন্বয় সাধনের জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করায় তদবিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
৪২ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শেরশাহ্্ কলোনী ডা. মজহারুল হক হাই স্কুল অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৭ আগস্ট ২০১৬
৪৩ রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমিতে ইংরেজি মাধ্যমিক পরিবর্তে বাংলা মাধ্যমে চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা!
আপনারা জানেন, সম্প্রতি সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজেন রে¯েঁÍারায় এবং শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে তাদের বর্বর আক্রমণ ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শান্তিকামী জনগনের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দুঃখ ও বেদনায় স্তব্দ দেশ। এ অবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক যে সংগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও তার বলিষ্ঠ অংশীদার। আপনারা নিশ্চয় জানেন, গত ১জুলাই রাজধানী ঢাকা ও ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গিরা যে বর্বর হামলা ও নৃশংস হত্যাকা- চালিয়েছিল তার বিরুদ্ধে ঈদের ছুটির পর ১ম কর্মদিবসে অর্থাৎ ১০ জুলাই হতে মাননীয় মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দিন এর নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ১০ জুলাই পোস্তারপাড় আছমা খাতুন সিটি কর্পোরেশন ডিগ্রি কলেজে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সম্মানিত সভাপতি জনাব নাজমুল হক ডিউক, অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শিক্ষা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ও শিক্ষা অধিদদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রতিটি কর্মসূচি শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটি ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মসূচি পালন করা হয়। আপনারা আরো জানেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ‘শোকের শক্তিকে রুখো জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নগরীর ৪১ কিলোমিটর এলাকাজুড়ে মানবপ্রাচীর রচনা করেন। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রত্যেক্ষ তত্বাবধানে এ মানবপ্রাচীর কর্মসুচি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়। আপনাদের সহযোগিতায় দেশ-বিদেশের গনমাধ্যমগুলোতে এ মানবপ্রাচীরকে গুরুত্বসহকারে সম্প্রচার করেছে। আমরা দাবি করতে পারি, এ মানবপ্রাচীর দেশে এ যাবৎকালের জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ কর্মসূচি ছিল।
প্রিয় বন্ধুরা আমার!
আপনারা আরো অবগত আছেন যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই একমাত্র দেশের দ্বিতীয় কর্পোরেশন যে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট নাগরিক সেবার বাইরেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছে। নগরবাসী কর্পোরেশনকে যেসব সেবাখাতের বিপরিতে রাজস্ব প্রদান করে থাকেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত তাতে নেই। অথচ সিটি কর্পোরেশন রাজস্বের একটি বিশাল অংশ এ খাতে ব্যয় করছে। প্রতি বছর শুধু শিক্ষা খাতে ৪২ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। যা দেশে নয় শুধু এশিয়ার আর কোন সিটি কর্পোরেশনে এ ধরণের ভর্তুর্কি প্রদান করে বলে আমাদের জানা নেই। এরপরও মাননীয় মেয়র এ খাতটিকে আরো উন্নয়ন ও যুগোপযোগী করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনায় শিক্ষা বিভাগের জন্য নি¤েœাক্ত পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
১. অ্যাডুকেশন ম্যানেজম্যান্ট প্ল্যান গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
ক. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামত
খ. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ
গ.শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করণের উদ্যোগ
ঘ. শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান
ঙ. শিক্ষকদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
চ. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলা
ছ . সুপেয় পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ
জ. বিজ্ঞানাগারগুলো আরো আধুনিক ও নতুন নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা।
ঝ. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রেঞ্জার, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউট গঠন করা
ঞ. সহ-শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ’সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ গঠন করা।
ট. শ্রেণিকক্ষগুলোকে সংস্কার, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, আলোকায়ন ও আধুনিক মানসম্মত শেণিকক্ষে রূপান্তর করা।
ঠ. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে অসচ্চল পরিবারের সন্তানতের টিউশন ফি বাবদ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে অবস্থানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধি করা হয় কিভাবে তা যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হবে।
২.শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অটোমোশনের আওতায় এনে নিন্মোক্ত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে-
ক.প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ওয়েবসাইট খোলা
খ. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত আইডি কার্ডকে ক্রমান্বয়ে স্মার্টকার্ডে রূপান্তর করা
গ. স্মার্ট কার্ড বা ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও বাহির নিশ্চিত করা
ঘ. সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমান্বয়ে অত্যাধুনিক কম্পিউটার
ল্যাব, পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যবস্থা করা।
ঙ. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও মনিটরিং জোরদার করার লক্ষ্যে সিসি ক্যামরার আওতায় আনা।
৩. স্কুল ও কলেজে শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ
৪. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড,
রেঞ্জার, স্কুলের নির্বাচিত কাউন্সিলিং সদস্যসহ অন্যান্য একাডেমিক দলের সদস্যদের নিয়ে মেয়র মহোদয় ও
স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের নিয়মিত সভার আয়োজন করা।

অবশেষে উপস্থিত সকল সাংবাদিক ভাইদের আবারও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য  শেষ করেন ।

facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *