মীরসরাইয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা

anwar 1

মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে রহস্যজনকভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ভোররাতে উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া মুহুরীপাড়া আবুল কালাম ড্রাইভারের বাড়িতে উক্ত খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত হোসনে আরা ওই বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী জহির উদ্দিনের স্ত্রী এবং সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। নিহত হোসনে আরার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উক্ত ঘটনায় নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মীরসরাই থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন।

এদিকে নিহত প্রবাসীর স্ত্রী হোসনে আরার মৃত্যুর পর দুই শিশু পুত্র ও কন্যার আহাজারি এবং বাবার বাড়ির লোকজনের বেদনার্ত কান্নায় দুই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর বার বছরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার জানান, বুধবার রাতে তাদের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। রাত প্রায় সাড়ে ৩ টায় ছোটবোন সুমাইয়া প্রাকৃতিক ডাকে বাইরে যেতে মা হোসনে আরাকে ডাকতে থাকে। এসময় সুমাইয়া মা হোসনে আরাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে ঘরে আলো জ্বালিয়ে মেঝেতে মায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সুমাইয়া চিৎকার দিলে বড় ভাই রাহাতও ছুটে এসে মায়ের রক্তাক্ত দেহ দেখে চিৎকার দিতে থাকে। পরে বাড়ির অন্যরাও ছুটে আসে। সীতাকুণ্ড এএসপি সার্কেল মাহবুবুর রহমান, মীরসরাই থানার ওসি এমকে ইমতিয়াজ ভূঁঞা, সিআইডি পুলিশের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গৃহবধূর চাচাত দেবর আজমাদ মিয়া (২৬) ও ভাসুরপুত্র মোশাররফ হোসেন (২২) নামে দুইজনকে আটক করেছে। মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা ইমতিয়াজ উদ্দিন জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশটি উদ্ধার করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আমজাদ মিয়া ও মোশাররফ এর কাছ থেকে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই হত্যাকাণ্ডের সকল রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সীতাকুণ্ড এএসপি সার্কেল মাহবুবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গৃহবধূ হোসনে আরা বেগমের চাচাত দেবর মো. আজমাদ মিয়ার কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ধারণা করছেন, লোভের বশবতী হয়ে আমজাদ মিয়া প্রবাসীর স্ত্রী জহির উদ্দিনের স্ত্রী হোসনে আরাকে মোশাররফের সহযোগিতায় খুন করতে পারেন।

অপরদিকে নিহতের ভাই মোহাম্মদ আলী ফরহাদ জানায় সম্পত্তি সংক্রান্ত পূর্ব শক্রতার জের ধরেই উক্ত ঘটনা অনেক কৌশলে ঘটানো হয় বলে তাদের ধারণা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুর রহমান পিপিএম জানান, খুনের সকল আলামত এবং ধৃত আসামিদের বক্তব্যসহ মামলার বাদীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা আরো গভীর অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি শীঘ্রই রহস্যের জট উন্মোচিত হবে।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *