পূর্বলন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ

102070_Mushfiq Vai-Fai

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক শফিক রেহমানের মুক্তির দাবিতে একাট্টা হয়েছেন লন্ডনে বসবাসরত সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের পেশাজীবী প্রবাসী বাংলাদেশি। বুধবার পূর্বলন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক বিশাল সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সকল নাটকীয়তা বন্ধ করে শফিক রেহমানের মুক্তি দাবি করা হয়।

নাগরিক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা শফিক রেহমানের গ্রেফতারকে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বাংলাদেশ সরকারের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা আখ্যায়িত করে শফিক রেহমানসহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে যে  অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক বলেও সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত প্রধানমন্ত্রীপুত্রকে খুন করার পরিকল্পনা সংক্রান্ত অভিযোগ সেই মামলার রায়ে নাকচ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ওই ঘুষ লেনদেনের ঘটনায়  প্রধানমন্ত্রীপুত্র কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত নয় বলে তাদের রায়ে উল্লেখ করেছেন। মূলত ওই মামলার নথিপত্রে প্রধানমন্ত্রীপুত্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলার (২৪ হাজার কোটি টাকা) সন্দেহজনক লেনদেনের/সম্পদের তদন্ত সংক্রান্ত সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীপুত্রের এই ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের বিষয় ধামাচাপা দিতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তারা বলেন, একই উদ্দেশে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার এবং এর আগে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগে ৪ বছর কারাগারে নির্যাতন ও তার সম্পাদনার পত্রিকা আমারদেশের প্রকাশনা বন্ধ করা এবং শওকত মাহমুদকে গ্রেফতার এবং বিপুল সংখ্যক মামলায় তাদের হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সামপ্রতিক সময়ে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সারাদেশে সাংবাদিকসহ সকল গণতান্ত্রিক কর্মী সংগঠকের ওপর নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার নিন্দা ও তাদের মুক্তির দাবি জানান।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার (৮০০ কোটি টাকা) লোপাটের ঘটনা, শত শত গুম-খুন ও সহিংস ঘটনা মোকাবিলায় চরমভাবে ব্যর্থ বাংলাদেশ সরকার মিডিয়া ও সিভিল সমাজকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সমালোচনা থেকে বিরত রাখতেই এই ধরনের নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে বলে সমাবেশে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

তারা বলেন, এই গ্রেফতার ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও  রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়রানির দীর্ঘদিনের প্রবণতার  অংশ এবং অবিলম্বে সরকার দমনের পথ পরিহার না করলে সকল পেশাজীবী মহল দেশে ও বিদেশে সমম্বিত হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গড়ে তুলবে এবং সকল আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সহযোগিতার আহ্বান জানাবে।

বক্তারা লন্ডনের মার্কিন দুতাবাসের মাধমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট’কে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক শফিক রেহমানের ব্যাপারে  বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার সদসদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য জোর দাবি জানানো হবে বলে সভায় জানানো হয় ।

সাপোর্ট লাইফ ইউকে চাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেন। এই ক্যাম্পেইন আগামীতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষণা করবে বলে সভায় জানানো হয়।

শফিক রেহমান প্রতিষ্ঠিত সংগঠন সাপোর্ট লাইফ ইউকের  সংগঠক ও  সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় একাত্মতা প্রকাশ করেন- ভয়েস ফর জাস্টিস-এর ড. এম হাসনাত হোসেইন, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. কে এম অ মালেক, জাস্টনিউজ সম্পাদক ও ইউনাইটেড ন্যাশনস করসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন সদস্য মুশফিকুল ফজল আনসারী, সাংবাদিক শফিক রেহমানের পুত্র সুমিত রেহমান, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইউকের প্রেসিডেন্ট আবু তাহের চৌধুরী, ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট চ্যানেল আই ইউকের এমডি শোয়েব চৌধুরী, এঙপার্টাইস ফোরাম ইউকের প্রেসিডেন্ট আলিয়ার হোসেন ও বারিস্টার মমাজিবুর  রহমান আইনজীবী ফোরাম লিডার ব্যারিস্টার তমিজ, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, সলিসিটার বিপ্লব পোদ্দার, নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি মনছব আলী ও সাউথ ইস্ট রিজিওন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসবা উদ্দিন, রাজনীতিবিদ আব্দুল হামিদ চৌধুরী, নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, শাহীন আহমেদ, জাহেদ আহমেদ তালুকদার, মেজর(অব.) সিদ্দিক, এসেম্বলি ফর ডেমোক্রেসির মনোয়ার বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

Facebooktwittergoogle_pluspinterestlinkedin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *